কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল কাণ্ডের ছায়া এবার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তফাতটা একটু অন্যরকম। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলাফল অত্যন্ত খারাপ। ঢালাও ফেল করেছেন ছাত্রছাত্রীরা। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঢালাও গ্রেস নাম্বার দিয়ে পাশ করানো হয়েছে পরীক্ষার্থীদের। যেখানে কোনো নিয়মই নেই প্রথম এবং দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার্থীদের গ্রেস নাম্বার দেওয়ার, আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দেদার গ্রেস নাম্বার দিয়ে পাস করানোর অভিযোগ উঠেছে প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক গোপালচন্দ্র মিশ্র এবং প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ামক সনাতন দাসের বিরুদ্ধে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়়ে যে এজেন্সি কাজ করে সেই এজেন্সি গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ করে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৮ শে নভেম্বর নির্দিষ্ট সময়ের অনেক দেরিতে স্নাতক স্তরের প্রথম এবং দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই ফলাফল প্রকাশের মধ্যে চরম অসঙ্গতি ধরা পরে। ফল প্রকাশের তিনদিন পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক স্বাগত সেন। অসঙ্গতিপূর্ণ ফল নিয়ে আন্দোলনে নামেন ছাত্রছাত্রীরাও। তারপরেই একটি তদন্ত কমিটি তৈরি করে দেন নতুন উপাচার্য। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে উপাচার্যের কাছে। তদন্ত নিয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে অসংখ্য ফেল করা ছাত্রছাত্রকে গ্রেস নম্বর দিয়ে পাস করানো হয়েছে কোনো রকম লিখিত সিদ্ধান্ত ছাড়াই। এরফলে একদিকে যেমন পাসের হার বেড়েছে, তেমনই ফেল করেও উতরে গেছেন প্রচুর পরীক্ষার্থী। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ার পরে আবার নতুন করে ফলাফল প্রকাশের কথা ভেবে দেখছেন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয় এবং ফলাফল প্রকাশ নিয়ে এতটাই অসঙ্গতি রয়েছে যে তার সমাধান খুঁজতে এখন কালঘাম ছুটছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। উত্তরপত্রের প্রাপ্ত নম্বরের সাথে ফলাফলে প্রকাশিত নম্বরের বিরাট ফারাক ধরা পড়েছে। এক থেকে আট পর্যন্ত নম্বর গ্রেস দেওয়া হয়েছে অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীকে। ফলে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে পাশের হার।
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক স্বাগত সেন বলেন, অনেক অসংগতি ধরা পড়েছে। সেসব দূর করে কিভাবে স্বচ্ছ ফলাফল প্রকাশ করা যায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে যাদের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেই প্রশ্নটি সহাস্যে এড়িয়ে গেছেন উপাচার্য।
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে
https://www.youtube.com/embed/0Fc3zx1fHxk